১৩ নদী পুনঃখনন প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়ন করুন
- আপলোড সময় : ১৯-০৯-২০২৬ ০১:৪৯:৪৯ পূর্বাহ্ন
- আপডেট সময় : ১৯-০৯-২০২৬ ০১:৪৯:৪৯ পূর্বাহ্ন
হাওরাঞ্চলের কৃষি, অর্থনীতি ও জীবনযাত্রার সঙ্গে নদীর সম্পর্ক অবিচ্ছেদ্য। কিন্তু সুনামগঞ্জের নদীগুলোর নাব্যতা কমে যাওয়ায় একদিকে শুষ্ক মৌসুমে সেচের সংকট তৈরি হচ্ছে, অন্যদিকে বর্ষা ও আগাম বৃষ্টিতে পানি নিষ্কাশন ব্যাহত হয়ে হাওরের বোরো ফসল ঝুঁকির মুখে পড়ছে। দীর্ঘদিনের এই সংকট সমাধানে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) ১৩টি নদী পুনঃখননের উদ্যোগ নিলেও দুই বছর ধরে প্রকল্পের প্রস্তাবনা পানিস¤পদ মন্ত্রণালয়ে ঝুলে থাকা অত্যন্ত হতাশাজনক। সুরমা, আবুয়া, পাটলাই, সোমেশ্বরীসহ ১৩টি নদী পুনঃখননে প্রায় দেড় হাজার কোটি টাকার প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছিল ২০২৪ সালে। পরিকল্পনা ছিল ২০২৬ সাল থেকে কাজ শুরু করে তিন বছরের মধ্যে তা শেষ করা। অথচ নির্ধারিত সময়ের কাছাকাছি এসেও প্রকল্পটির অনুমোদন মেলেনি। কবে অনুমোদন হবে, কবে কাজ শুরু হবে - এ নিয়েও নেই কোনো স্পষ্ট সময়সীমা। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বক্তব্য অনুযায়ী, অন্যান্য প্রকল্পের অগ্রাধিকারের তুলনায় এটিও পিছিয়ে রয়েছে। হাওরাঞ্চলের বাস্তবতা বিবেচনায় এ অবস্থান কতটা যৌক্তিক, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন।
সুনামগঞ্জের প্রধান ভূ-প্রাকৃতিক সমস্যা হলো নদী ও হাওরের পানি ব্যবস্থাপনার ভারসাম্যহীনতা। শুষ্ক মৌসুমে নদীর পানি হাওরে প্রবেশ না করায় সেচের সংকট দেখা দেয়। আবার বর্ষায় নদীর পানি দ্রুত নেমে যেতে না পারলে হাওরে পানি আটকে যায়। বোরো ধান কাটার আগে আকস্মিক পানি বৃদ্ধি হলে কৃষকের বছরের পর বছর করা শ্রম, বিনিয়োগ ও ঋণ - সবই মুহূর্তে পানিতে তলিয়ে যেতে পারে। ফলে নদীর নাব্যতা ফিরিয়ে আনা শুধু একটি উন্নয়ন প্রকল্প নয়; এটি হাওরের কৃষি ও অর্থনীতিকে সুরক্ষিত রাখার অন্যতম পূর্বশর্ত।
প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নতি এবং শুষ্ক মৌসুমে সেচ সুবিধা বৃদ্ধির সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছে পাউবো। কিন্তু সম্ভাবনার কথা বললেই হবে না, এর বাস্তবায়নও নিশ্চিত করতে হবে। বিশেষ করে বোরো মৌসুমের সময় যতই ঘনিয়ে আসছে, প্রকল্পের অনিশ্চয়তা কৃষকদের উদ্বেগ বাড়াচ্ছে।
আমরা মনে করি, ১৩ নদী পুনঃখনন প্রকল্পকে কেবল আরেকটি সরকারি প্রকল্প হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। এর সঙ্গে সুনামগঞ্জের কৃষকের জীবিকা, খাদ্য উৎপাদন এবং হাওর অর্থনীতি সরাসরি জড়িত। প্রকল্পটির কারিগরি ও আর্থিক যৌক্তিকতা যাচাই করে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া এবং অনুমোদনের পর বাস্তবায়নে কার্যকর সময়সূচি নির্ধারণ করা জরুরি।
দুই বছর ধরে মন্ত্রণালয়ের টেবিলে পড়ে থাকা একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প আর কতদিন অপেক্ষা করবে - এই প্রশ্নের উত্তর এখন কৃষকসমাজের প্রাপ্য। হাওরের কৃষকদের প্রতিবছর একই অনিশ্চয়তার মধ্যে রেখে উন্নয়ন পরিকল্পনার সার্থকতা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। তাই সিদ্ধান্তের দীর্ঘসূত্রতা কাটিয়ে দ্রুত প্রকল্প অনুমোদন ও বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়াই সময়ের দাবি।
নিউজটি আপডেট করেছেন : SunamKantha
কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদকীয়